এশিয়ার স্পট মার্কেটে চলতি সপ্তাহে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম চলতি সপ্তাহে এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ঠাণ্ডা আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও ইউরোপের দেশগুলোয় প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ জ্বালানি পণ্যটির দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় মার্চে সরবরাহের জন্য চলতি সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ছিল গড়ে ১৬ ডলার ১০ সেন্ট। এলএনজির এমন দাম ২০২৩ সালের নভেম্বরের পর থেকে সর্বোচ্চ।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানের এফজিইর গ্যাস অ্যান্ড এলএনজি সাপ্লাই অ্যানালিটিকস বিভাগের পরিচালক সিয়ামাক আদিবি বলেন, ‘ইউরোপের দেশগুলোয় মজুদ থেকে এলএনজির ব্যবহার বেশি হচ্ছে। এটি বর্তমানে এলএনজি বাজারের মূল উদ্বেগ। অঞ্চলটি ফেব্রুয়ারিতে ১ কোটি ১০ লাখ টন এলএনজি আমদানির পথে রয়েছে।’
আর্গাসের হেড অব এলএনজি প্রাইসিং মার্টিন সিনিয়র বলেন, ‘কিছু এলএনজি কার্গো এশিয়া থেকে ইউরোপে স্থানান্তর হয়েছে। ইউরোপে বাড়তি দাম ও এশিয়ায় চাহিদা কম থাকায় অঞ্চলটিতে রফতানি বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া টোকিও ও সিউলে মাসের শেষে শীতল তাপমাত্রার পূর্বাভাস রয়েছে। যদিও পরবর্তী সময়ে আবার মৌসুমি গড় তাপমাত্রা দেখা দেবে।’
পিজেড-এনার্জির চিফ এনার্জি ইকোনমিস্ট হান্স ভ্যান ক্লিফ বলেন, ‘এখনো শীতকালীন কিছু মাস বাকি আছে। এর মধ্যে ইউরোপে মজুদ প্রায় ৪৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তাই এলএনজির বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।’
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস গত বৃহস্পতিবার মার্চের সরবরাহ চুক্তিতে নর্থওয়েস্ট ইউরোপ এলএনজি মার্কার (এনডব্লিউএম) বাজার আদর্শে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম স্থির করেছে ১৫ ডলার ১৪ সেন্টে। এছাড়া একই মাসের সরবরাহ চুক্তিতে টিটিএফে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজিতে ৫৫ সেন্ট ছাড় দেয়া হয়েছে।
আরগাস প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করেছে ১৫ ডলার ১১ সেন্ট। অন্যদিকে স্পার্ক কমোডিটিজ ফেব্রুয়ারির সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করেছে প্রায় ১৫ ডলার ১০ সেন্ট।
এদিকে স্পার্ক কমোডিটিজের বিশ্লেষক কাসিম আফগান জানান, শুক্রবার আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে এলএনজির পরিবহন ব্যয় বেড়ে দৈনিক ৫ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে তা কমে দৈনিক ১০ হাজার ডলারে স্থিতিশীল আছে।